নিউজ

বিরাট সুখবর! কেন্দ্র বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কর্মীদের 100% Work From Home-a সায় দিতে পারে

Work From Home: কোভিড-১৯ আমাদের জীবনে আমূল পরিবর্তন এনেছে।করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় গোটা পৃথিবীতেই লকডাউন চলে। অতিমারি আর লকডাউন এই দু’য়ের চাপে সব কিছুই যেন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। করোনার জন্য স্কুল-কলেজ সহ অফিস,সিনেমাহল সব কিছুই বন্ধ ছিল। যারা প্রতিদিন সকালে উঠে নাকে-মুখে দুটো খাবার গুঁজে অফিস ছুটতেন, তাঁরা ওয়ার্ক ফ্রম হোমের স্বাদ পেয়েছিলেন।

আমাদের নিউ নর্মাল লাইফের সঙ্গে যেন ওতপ্রোতভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম (Work From Home) কথাটি জড়িয়ে গিয়েছিল। এই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের কারনে অনেকেই বেশ খুশি হয়েছিলেন। কারন ভিড় ঠেলে আর অফিস যেতে হবে না, বাড়িতে বসে নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করা যাবে। মাঝে মধ্যে চাইলে একটু ঘুমিয়েও নেওয়া যাবে, কে আর দেখতে যাচ্ছে।

আগে যখন অফিস যেতে হত তখন অফিসে ঢোকার একটা নির্দিষ্ট সময় ছিল। কিন্তু ওয়ার্ক ফ্রম হোম (Work From Home) করলেও কাজে বসার নির্দিষ্ট সময় দেখে কাজ করার প্রয়োজন নেই। যখন খুসি তখন কাজ করলেই হল। এই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের জন্য সকলেই মা-বাবা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পেরেছেন। পরিবারের গুরুত্বটা আসলে কি তা এই লকডাউনে উপলব্ধি করতে পেরেছে নতুন প্রজন্ম।

আরও পড়ুন :  Indian Bank Notes: বিরাট সিদ্ধান্ত নিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া! অর্থব্যবস্থা থেকে বাতিল হচ্ছে ১০ ধরনের নোট,

তবে দুই বছর পার করে করোনা সংক্রমণ বর্তমানে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। আর সংক্রমণ কমতেই কর্মীদের অফিসে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অনেক সংস্থা আবার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোমে সাশ্রয়ের পথ খুঁজে পাওয়ায় আগামী কয়েক বছরের জন্যও কর্মীদের বাড়ি থেকেই কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। আবার অধিকাংশ অফিসের কর্মীরা নিজে থেকেই কাজে ফিরে আসতে চাইছেন না।তারা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে চাইছেন।

কারন অনেকের ক্ষেত্রে বাড়ি থেকে অফিসে যাতায়াত করা বেশ কষ্টসাধ্য। আর সময় সাপেক্ষও বটে,তার ওপর খরচের বিষয়টা তো আছেই। আর দূরের শহরে হলে তো সেখানে যাওয়া, থাকার খরচ আছেই।তাই বাড়ি থেকেই ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে যেহেতু কাজ করা সম্ভব,তাই সেক্ষেত্রে অহেতুক অফিসে যাওয়াটাই অর্থহীন বলে মনে করছেন।

আবার অনেক কর্মী মনে করছেন ওয়ার্ক ফ্রম হোমে (Work From Home) বাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের সুবিধা অনুসারে বেশিক্ষণ কাজ করা যায়।ওয়ার্ক ফ্রম হোমের জন্য যাতায়াতের খরচ, সময়, পরিশ্রম বেঁচে যাচ্ছে। কিন্তু অফিসে এসে ওই ৯টা-৫টার হিসেব মিলিয়ে কাজ করতে সমস্যাই হচ্ছে। আসলে করোনা লকডাউনের সময় থেকে সকলের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে।তাই বর্তমানে পরিস্থিতি এমনই দাঁড়িয়েছে যে কর্মীদের অফিসে আসতে বাধ্য করলে তাঁরা কোম্পানিতে চলে যাচ্ছেন।

যারা ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে চাইছেন তাদের জন্য সুখবর রয়েছে।শীঘ্রই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (SEZ) ১০০% কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ (WFH) করার অনুমতি দিতে পারে কেন্দ্র সরকার।লক্ষ্য পরিষেবা রফতানি বৃদ্ধি ও জনবলের ঘাটতি মোকাবিলা। মঙ্গলবার বাণিজ্য পর্ষদের বৈঠকের সময়েই এই বিষয়ে বিবেচনার খবর মিলেছে। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এ বিষয়ে পর্যালোচনা করছেন।

এই পদক্ষেপের ফলে দেশের ৩৫০টিরও বেশি SEZ জুড়ে নিযুক্ত প্রায় কুড়ি লক্ষ ব্যক্তি প্রভাবিত হবেন। এই ক্ষেত্রগুলি ভারতের মোট রফতানির ২৫%-এরও বেশি প্রদান করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতের বেশিরভাগ SEZ-তেই তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) বা আইটি-সমর্থিত পরিষেবা সংস্থাগুলির দফতর। এগুলি সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক পণ্য ইত্যাদি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত।

ওয়ার্ক ফ্রম হোমে যাতায়াতের খরচ, সময়, পরিশ্রম বেঁচে যাচ্ছে। অন্যদিকে সফটওয়্যার, ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অফিস না গিয়েও সমমানের কাজ হচ্ছে। লিঙ্কডইনের মতো অনলাইন নেটওয়ার্কিংয়ের সৌজন্যে কেরিয়ারে উন্নতিও থেমে নেই। এমন পরিস্থিতিতে একই কাজ করতে কর্মীরা আর অফিস যেতে চাইছেন না।

আর সেই কারণেই ১০০% ওয়ার্ক ফ্রম হোমের বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্তরে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই অনুমতি দেওয়া হলে পরিষেবা রফতানি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব সেক্টরের জন্য এই বিবেচনা করা হচ্ছে।কেন্দ্র গত জুলাই মাসে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (SEZ) পরিচালনাকারী সংস্থাগুলিকে চুক্তিভিত্তিক সহ ৫০% কর্মীকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য WFH করতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

আর এবার ১০০% ওয়ার্ক ফ্রম হোমের বিষয়টি কেন্দ্রীয় স্তরে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই বিষয়ে পর্যালোচনা করছেন। কোভিডের সময় বাড়ি থেকে কাজ করেও পরিষেবা খাতের দারুণ উন্নতি হয়েছিল ও রফতানি বেড়েছে। এই বছর সেটা আরও বৃদ্ধি পাবে, এমনটাই মনে করছেন পীযূষ গোয়েল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button