ঐন্দ্রিলা শর্মা,পরপর ১০ বার হার্ট অ্যাটাক, ঐন্দ্রিলা-র মৃত্যুর পর অতিক্রান্ত ১ মাস, কেমন আছেন সব্যসাচী?

আমাদের ঐন্দ্রিলা শর্মা,পরপর ১০ বার হার্ট অ্যাটাক,শেষ রক্ষা হল না আর

“ঐন্দ্রিলা শর্মা”- নামটা যেন এখনও মানুষের মনে গেঁথে রয়ে গেছে। কিভাবে যে হঠাৎ কি হয়ে গেল, তা কারোর বোঝার আগেই যেন‌ সব শেষ হয়ে গেল। গত ১লা নভেম্বর, মঙ্গলবার, বাড়িতে দিদি ঐশ্বর্য শর্মার জন্মদিন উদযাপন করছিলেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। হঠাৎই তার বমি শুরু হয়,সাথে-সাথেই শরীরের বাঁদিক পুরোপুরি প্যারালাইজ্ড হয়ে যায়।

অভিনেত্রীর পরিবার তড়িঘড়ি তাকে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সামনে আসে তার ব্রেন স্ট্রোকের খবর। ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থায় ক্রমাগত মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গেছেন অভিনেত্রী ঐন্দ্রিলা শর্মা। মিডিয়ায় তার শরীরের ক্রমাগত অবনতির খবর লক্ষ্য করে হাজারো মানুষ প্রার্থনা শুরু করেন ঈশ্বরের কাছে,যেন তিনি সুস্থ শরীরে পুনরায় ফিরে আসেন আমাদের মাঝে।

Advertisement

বলিউডে অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন এর আসল নাম জানলে অবাক হবেন।

তাকে যেন আবার আমরা টেলিভিশনের পর্দায় ফিরে পাই। কিন্তু, নিয়তির ইচ্ছে ছিল একটু অন্যরকম। এই সবকিছুর মধ্যে হাল ছাড়েননি অভিনেত্রীর মনের মানুষ সব্যসাচী চৌধুরী। এর আগে ২০১৫ সালে অভিনেত্রীর প্রথম ক্যান্সার ধরা পড়ে। কোনোমতে বেঁচে ফিরেছিলেন সেইবার। এসময় সব্যসাচী এক মুহূর্তের জন্য তাকে কাছছাড়া হতে দেননি,দিন-রাত সেবা করে তার পাশে “অন্ধের যষ্টি” হয়েছিলেন,সুস্থ করে তুলেছিলেন তাকে।

কিন্তু, এইবার আর শেষ রক্ষা হল না। ১লা নভেম্বরের পর থেকেই অভিনেত্রীর (ঐন্দ্রিলা শর্মা) শারিরীক অবনতি কোনোক্রমেই চিকিৎসকদের নজর এড়ায়নি। তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন। গত ১৯শে নভেম্বর, শনিবার,পরপর তার ৯ বার হার্ট এ্যাটাক হয় এবং ১০বারে তিনি পুরোপুরি মৃত্যুশয্যা বরণ করেন। গত ২০ই নভেম্বর, রবিবার,বেলা ১টার সময় তাকে “মৃত” বলে ঘোষণা করা হয়।

মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ভাইরাল হয়ে যায়। হাজারো মানুষের প্রার্থনা-আশীর্বাদ সব বিফলে গেল। তিনি আমাদের চিরবিদায় জানিয়ে চলে গেলেন “না ফেরার দেশে”,সাথে রেখে গেলেন তার স্মৃতি। বছর ২৪-এই স্তব্ধ হল একটি প্রাণের। কিন্তু, সবকিছুর মধ্যে কোথাও যেন একটা ধোঁয়াশা রয়েছে। অভিনেত্রীর পরিবার দাবি করছেন ঐন্দ্রিলা শর্মার মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসকদের গাফিলতি দায়ী।

মূলত ২জন চিকিৎসকের মধ্যে ইগোর সমস্যা দেখা যায় অপারেশন থিয়েটারে। ডাঃ মল্লিক বরাবরই রোগীর শারীরিক অবস্থার খেয়াল রেখে কো-অপারেট করে গেছেন, কিন্তু,ডাঃ পিয়া ঘোষ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।তিনি তার ইগোর জন্য অন্যান্য চিকিৎসকদের কোনোরূপ সাজেশন ফলো করেননি, দায়িত্বের সাথে যেন ঐন্দ্রিলাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছিলেন।

Aindrila Sharma – জীবন সংগ্রামে এবার হেরে গেল ঐন্দ্রিলা! তার মনের মানুষ সব্যসাচী এখন কেমন আছেন?

অভিনেত্রীর পরিবারের দাবি,ঐন্দ্রিলার ফুসফুস-কিডনি-হার্ট যথেষ্ট স্ট্রং ছিল,তা খুব সহজেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কাটিয়ে উঠতে পারত। এইসময় প্রখ্যাত গায়ক অরিজিৎ সিং আর্থিক ভাবে অভিনেত্রীর পরিবারকে সাহায্য করেন। অভিনেত্রীকে অপারেশনের জন্য মুম্বাই নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ঐন্দ্রিলা শর্মার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট স্টেবল ছিল না।

ঠিক হয়,তাকে এয়ার বাসে করে নিয়ে যাওয়া হবে। শুনে একজন অদক্ষ হসপিটাল ইনচার্জ তড়িঘড়ি অভিনেত্রীর সমস্ত হেলথ্ সাপোর্ট খুলতে শুরু করেন। ফলে শারীরিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে ওঠে।ঐন্দ্রিলার বাবা এবং দিদি ডাক্তার, তারা নিজেদের চোখে দেখেছেন কিভাবে একজন চিকিৎসকের গাফিলতি তাদের মেয়েকে ডিপ কোমার দিকে ঠেলে দিল।
এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবরের আপডেট সবার আগে পেতে হলে এই ওয়েবপোর্টালটি ফলো করতে ভুলবেন না।
Written by Arpita Sen.

সকালের বার্তার নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন সকালের বার্তার গুগল নিউজ, সকালের বার্তা ফেসবুক পেজ, সকালের বার্তা টেলিগ্রাম গ্রুপ ও WhatsApp Group.

Advertisement

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *