ভাইরাল

OMG! গোবর দিয়ে ব্যাগ, চপ্পল, আবির বানিয়ে এক ব্যক্তি বছরে আয় করছেন প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা

গোবর থেকে তৈরি হয় ঘুঁটে আবার কোথাও সেই গোবর থেকে সার তৈরি করে ফেলা হয় মাঠে। কিন্তু এই গোবর দিয়েই ব্যাগ, চপ্পল, আবির তৈরির কথা কেউ শুনেছেন কি? অবিশ্বাস্য মনে হলেও ছত্তিশগড়ের রিতেশ আগরওয়াল গোবর দিয়ে ব্যাগ,চপ্পল তৈরি করেন।ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের গোকুল নগরে বসবাসকারী এই গরু চাষী গোবর থেকে কয়েক ডজন জিনিস তৈরি করেছেন। বর্তমানে এই গোবর দিয়ে কাজ করেই তিনি বার্ষিক ৩৬ লক্ষ টাকা আয় করছেন।

রিতেশ রায়পুর থেকেই শিক্ষা গ্রহণ করেন। ২০০৩ সালে স্নাতকের ডিগ্রি লাভ করে, অনেক কোম্পানিতে চাকরি করলেও তার মন টিকছিল না কোথাও। বহুদিন ধরে তিনি সমাজের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলেন কিন্তু বুঝে উঠতে পারেননি কি করা উচিৎ। এক সাক্ষাৎকারে রিতেশ বলেন প্রায়ই রাস্তায় গরু ঘুরে বেড়াতে দেখতাম।এসব গরুর অধিকাংশ আবর্জনা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে, অনেকে দুর্ঘটনারও শিকার হয়।তাই আমি তাদের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলাম।

আরও পড়ুন :  আনন্দে বিনামূল্যে নিজের সেলুনে পরিষেবা দিলেন মেয়ের বাবা

২০১৫ সালে চাকরি ছাড়ার পর আমি একটি গোয়ালে যোগ দিয়ে গরুর সেবা শুরু করি। এরপর ধীরে ধীরে সে গোবর থেকে জিনিস বানাতে শুরু করেন।রীতেশ জানান গোবর থেকে চপ্পল তৈরির প্রক্রিয়া খুবই সহজ। এজন্য রীতেশ গোহরের আঠা, আয়ুর্বেদিক ভেষজ, চুন এবং গোবরের গুঁড়ো মিশিয়ে তৈরি করেন এই চপ্পল। কেজি গোবর থেকে ১০ টি স্লিপার তৈরি করা সম্ভব। এই চপ্পল ৩-৪ ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজে গেলেও নষ্ট হয় না। রোদে শুকিয়ে আবারো ব্যবহার করা যায়।

আর গোবর থেকে আবির ও গুলাল তৈরি করার জন্য প্রথমে গোবর শুকনো করতে হয়। এরপর গোবর পাউডারে পরিণত করে তাতে ফুলের শুকনো পাতার গুঁড়া মেশানো হয়। এরপর এতে কাস্টার্ড পাউডার মেশানো হয়। পাউডারে বিভিন্ন রং দিতে প্রাকৃতিক রংও ব্যবহার করা হয়। হলুদ রঙের জন্য হলুদ ব্যবহার করা হয়, সবুজ রঙের জন্য ধনে পাতা ব্যবহার করা হয়।গত তিন বছরে রীতেশ আগরওয়াল গোবর থেকে ব্যাগ, পার্স, প্রতিমা, প্রদীপ, ইট, রং, আবির গুলাল এমনকি চপ্পলও তৈরি করেছেন।

গোবর থেকে জিনিস বানানো শেখার পর রিতেশ স্থানীয় লোকজনকেও এই কাজের সঙ্গে যুক্ত করেন। অন্যদেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে শুধু ছত্তিশগড় থেকে নয়, আশেপাশের রাজ্য থেকেও তাদের কাছে গোবরের পণ্যের চাহিদা আসতে শুরু করেছে। এমনকি ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল যখন ২০২২ সালের বাজেট অধিবেশন পেশ করতে বিধানসভায় পৌঁছেছিলেন, তখন তাঁর হাতে ছিল রীতেশের গোবরের তৈরি একটি ব্যাগ।রিতেশ ও তার সংস্থা ‘এক পাহাড়’ দশদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর এই ব্যাগটি তৈরি করেছিলেন।

Related Articles

Back to top button