সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস বাকি আছে! ওজন না করেই বুঝবেন কীভাবে? জানুন তার পদ্ধতি

বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে গ্যাসের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায়, মাস শেষে সকলের মাথায় এক চিন্তা কাজ করে। এই বুঝি গ্যাস ফুরিয়ে গেল! আর রান্নার মাঝে এমনটা হলে বিড়ম্বনার অন্ত থাকে না। গৃহস্থের কপালে ইতিমধ্যেই ভাঁজ বাড়িয়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। সংসার খরচের পাল্লায় রান্নার গ্যাসের জন্য বরাদ্দ গুণতে হচ্ছে বেশ মোটা টাকার।ভর্তুকি বাদ দিয়েও মূল অঙ্কটা খুব কম নয়।ইতিমধ্যেই অনেক নিম্ন-মধ্যবিত্তর ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছে মহার্ঘ জ্বালানি।

অনেক সময় রান্নার মাঝ পথেই গ্যাস শেষ হয়ে গেলে তখন পোহাতে হয় চরম ভোগান্তি।প্রতিটি পরিবারকে কখনও না কখনও এই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তবে একটা সিলিন্ডার মোটামুটি কত দিন চলে যায় সে ধারণা যারা রান্না করেন তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই রয়েছে।বাড়িতে কত জনের রান্না হচ্ছে বা কী ভাবে রান্না করা হচ্ছে এমন বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে যে, একটা গ্যাস সিলিন্ডার মোটামুটি কতদিন চলবে।

Advertisement

কিন্তু যতই ধারণা থাকুন না কেন, মাস খানেক চলার পর একটা দুশ্চিন্তা কিন্তু থেকেই যায়, বার বার চিন্তা ফিরে আসে এই বুঝি গ্যাস ফুরিয়ে গেল।রান্নাবান্না জোর কদমে চলছে, এরই মধ্যে হঠাং গ্যাস ফুরিয়ে গেলেই সর্বনাশ।কারন রান্না করতে করতে আচমকা গ্যাস ফুরিয়ে গেলে বিড়ম্বনার অন্ত থাকে না। এমনটা হলে ঝক্কি পোহাতে হয়।

কিন্তু সিলিন্ডারে আর কতটা গ্যাস পড়ে রয়েছে তা কী করে বুঝবেন? অনেকেই এক্ষেত্রে এলপিজি সিলিন্ডার হাতে তুলে ধরে বা ঝাঁকিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন যে, সিলিন্ডারে আর কতটুকু গ্যাস অবশিষ্ট রয়েছে। কেউ আবার আগুনের রং নীল না হলুদ তা দেখে বোঝার চেষ্টা করেন কতটা গ্যাস বাকি আছে।তবে নির্দিষ্ট ভাবে বোঝা যায় না কতটা গ্যাস অবশিষ্ট আছে সিলিন্ডারে।

এই সব পদ্ধতিতেও অনুমানের উপরেই নির্ভর করতে হয়।কিন্তু তাতেও নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না।তবে খুব সহজ এক ঘরোয়া পদ্ধতি কাজে লাগিয়েই আপনি সঠিক ধারনা পেয়ে যাবেন আর কতটা গ্যাস অবশিষ্ট আছে সিলিন্ডারে।সিলিন্ডারে আর কতটা গ্যাস রয়েছে তা বোঝার সহজ পদ্ধতিটি তাহলে জেনে নেওয়া যাক।

১) প্রথমে একটা ভিজে কাপড় দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডারটিকে খুব ভাল করে মুছতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, সিলিন্ডারের গায়ে যেন কোনও ধুলোর আস্তরণ না থাকে।

২) সিলিন্ডার ভাল করে মোছা হয়ে গেলে ২-৩ মিনিট পর দেখবেন, সিলিন্ডারের কিছুটা অংশের ভিজে ভাব শুকিয়ে গিয়েছে আর বাকি অংশ তখনও ভিজে রয়ে গেছে।

৩) সিলিন্ডারের যে অংশটা শুকোতে বেশি সময় নিচ্ছে, সেই অংশ টুকুই রান্নার গ্যাসে ভরা রয়েছে। আর যে অংশটা তাড়াতাড়ি শুকিয়ে গিয়েছে, সিলিন্ডারের সেই অংশটি খালি। কারণ সিলিন্ডারের যে অংশে তরল রয়েছে, সেখানকার তাপমাত্রা খালি জায়গার তুলনায় কিছুটা হলেও কম হবে। তাই সিলিন্ডারের যে অংশে গ্যাস রয়েছে, সেই অংশটির তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত কম বলে শুকোতে বেশি সময় লাগে।

কিন্তু কেন এমন হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রান্নার সিলিন্ডারে ভরা থাকে এলপিজি বা লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস। এই গ্যাসে ভরা অংশের উষ্ণতা খালি অংশের তুলনায় কিছুটা হলেও কম থাকে। ফলে এই অংশে জড়িয়ে রাখা ভিজা কাপড় তুলনামূলক ভাবে দ্রুত শুষ্ক হয় ও বাকি অংশটি ভিজা থেকে যায়।

সুতরাং এই বুঝি গ্যাস ফুরিয়ে গেল’ ভেবে দুশ্চিন্তা করার আর প্রয়োজন নেই। সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস রয়েছে তা নিয়ে। বিন্দুমাত্র সংশয় থাকলে এই সহজ পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে নিজেই দেখে নিন কতটা গ্যাস রয়েছে।

Advertisement

News Desk

Sakalerbarta.com is a regional Bengali news portal. It was founded on 14 September 2020. sakalerbarta.com News is a great source of information for everyone. We provide information on Latest News, educational News, current affairs, current topics News, and trending News. Our main goal is to give information that can be used responsibly. We are not affiliated with any government organization and do not host any government website.

Related Articles