Advertisement
লাইফস্টাইল

Husband is estranged: নিজের স্বামী পরকীয়া করছেন জেনেও মহিলারা কেন ছেড়ে যেতে পারেন না? তাঁদের মুখেই আসল কারণ শুনুন

সেটা স্বামী-স্ত্রী দুজনের ক্ষেত্রেই হতে পারে। স্বামী অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারেন কিংবা স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে।

Husband is estranged: সংসার মানে দুজন মানুষ পাশাপাশি হাত ধরে চলার অঙ্গীকার। সেই দুজন মানুষের মধ্যে যখন তৃতীয় কেউ চলে আসে তখন সেই সম্পর্ক অন্যদিকে মোড় নেয়। সেটা স্বামী-স্ত্রী দুজনের ক্ষেত্রেই হতে পারে। স্বামী অন্য কোনো নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে পারেন কিংবা স্ত্রী অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে। আর এই সম্পর্ককেই আমরা মূলত পরকীয়া বলি।

Advertisement

পরকীয়া শব্দটি এখন অতিপরিচিত (Husband is estranged)। প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই অহরহ শোনা যায় পরকীয়ার ঘটনা।পরকীয়ার জন্য ভেঙে যাচ্ছে সংসার, খুন হচ্ছে সন্তান। তবে অনেকে জানতে চায় কেন এই পরকীয়া।সাধারণত দেখা যায় অসুখী দম্পতিরা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। কেউ তাদের মানসিক শান্তির জন্য, কেউ তাদের শারীরিক চাহিদার জন্য।

Advertisement

তবে যে কারণেই জড়াক না কেন, একটা বিষয় স্পষ্ট (স্বামী-স্ত্রী) সম্পর্কের মধ্য থেকে আরেকটা সম্পর্ক তৈরি করা এটা এক ধরনের প্রতারণা।পৃথিবীতে বেশির ভাগ মানুষই প্রেম বা বিয়ের সম্পর্ককে বেশিদিন আঁকড়ে ধরে রাখতে পারেন না।অনেকে জীবনভর একই ছাদের নিচে থাকেন বটে, তবে সংসারের নিয়মে।সংসার নামক বন্দি জীবনে একটুখানি বৈচিত্র্যের ছোঁয়া পেতে অনেক পুরুষরা আকৃষ্ট হন অন্য নারীদের প্রতি।

Advertisement

যাদের স্বামী বা স্ত্রী পরকীয়ায় (Husband is estranged) আসক্ত,তাদের অনেকেই বলেন ‘সঙ্গী আপনাকে ঠকিয়েছে জেনেও তাঁর সঙ্গে থাকছেন মানে নিজেকেই অসম্মান করছেন আপনি’।এই কথা আসলে বলা খুবই সহজ, কিন্তু মেনে চলা কি ঠিক অতটাই সহজ? সঙ্গী ঠকিয়েছেন, এই কথা জানার পর অনেকেই সেই সম্পর্ক ভেঙে দেয়। কিন্তু অনেকেই আবার সম্পর্ক ভাঙতে বা সঙ্গীকে ছেড়ে যেতে পারেন না।

Advertisement

সম্পর্ক ভাঙতে পারেন না তার মানে এই নয় যে, তাঁরা নিজেদের সম্মান করেন না। আসলে তার পিছনে অনেক কারণ আছে। সবাই অতটাও শক্ত হন না যে, দীর্ঘ বছরের সম্পর্ক ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারবেন।আবার সব মানুষের মধ্যে একই প্রভাব পড়ে না। আবার অনেকেই “লোকে কী বলবেন” ভেবে ছেড়ে যেতে পারেননি।যাদের সঙ্গী প্রতারণা করেছেন জেনেও ছেড়ে যেতে পারেননি যাঁরা এরকম ৫ জনের নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন।তারা কি বলছে দেখুন-

১)পরিবারের কথা ভাবতে হয়-

আমি সাক্ষী আমার বয়স ৩৭ বছর।আমি বিবাহিত। আমার মেয়ের বয়স যখন ১০ বছর, তখন আমি জানতে পারি আমার স্বামী পরকীয়া করছেন। প্রথমেই আমি ভেবেছিলাম, পরিবারকে ভাঙতে দেওয়া যাবে না। কারণ আমার মেয়ে এখন সবে বড় হচ্ছে।

এই সময়ে আমি স্বামীর থেকে আলাদা হতে পারিনি।এই কথা ঠিক যে, আমার এবং তাঁর মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু বিয়ে থেকে বেরোতে পারিনি আমার মেয়ে মিঠির কথা ভেবে। আমি জানি, কত কষ্ট হয়।

৩)সামাজিক চাপ-

আমি মেঘা, আমার বয়স ৩০ বছর।আমি একজন মহিলা এবং আমি জানি যে আমার স্বামী আমাকে ঠকিয়েছেন। কিন্তু সমাজ আমার দিকেই আঙুল তুলবে। তাই যখন আমার স্বামী অন্য সম্পর্কে মত্ত ছিলেন, তখন আমার চারপাশের লোকজন আমার দিকে আঙুল তুলেছিলেন।

আমায় নিয়ে নানা কথা বলতেন। যেন আমার দোষেই এমন হয়েছে, আমার স্বামীকে সুখী (Husband is estranged) করতে পারিনি। আমি এই ধরনের অসম্মান সহ্য করতে পারতাম না। তাই আমি সম্পর্কে থেকে যাই। কিন্তু ওকে আর ভালোবাসতাম না।

৩)ভালোবাসার জন্য থেকে যাই-

আমি সামখ্যা, বয়স ৪০ বছর।আমার স্বামী আমায় ঠকিয়েছিলেন। তিনি তাঁর সহকর্মীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। আমায় জানিয়েছিলেন, তাঁর সহকর্মীর প্রতি ভালো লাগার কথা। সেই কথা শুনে আমার মন ভেঙে যায়।

তিনি আমায় ঠকিয়েছিলেন কারণ তাঁর মনে হত আমি তাঁকে ভালোবাসি না।কিন্তু আমি তাও সেই সম্পর্কে থেকে যাই। তাঁর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য আমি সম্পর্কে থেকে যাই।ভেবেছিলাম আবার তাঁর ভালোবাসা ফিরে পাব। হয়তো অতীত ভুলে এগিয়ে যেতে পারব তার সাথে।

৪)স্বামীর খারাপ সময়ে ছেড়ে যেতে পারিনি-

আমার স্বামীর অন্য কার সাথে সম্পর্ক ছিল।কিন্তু আমি আমার সঙ্গীকে ছেড়ে যেতে পারিনি। কারণ আমরা অনেকটা সময় একসঙ্গে থেকেছি। তবে ও অন্য কাউকে চুমু খেয়েছে, এই কথা ভেবে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল।

কিন্তু ওই সময় ওর বাবা মারা যান।তাই সেই কঠিন সময়ে আমি ওকে ছেড়ে যেতে পারিনি।পরে আমি সেই ‘চুমুর কথা’ ভুলে যেতে চেয়েছিলাম। তার এক মুহূর্তের ভুল ভেবে ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু আমাদের সম্পর্ক আর আগের মতো হয়নি।

৫)সবার হাসির পাত্র হয়ে উঠেছি-

আমি রাজশ্রী, ৪৩ বছর বয়স। আমার পার্টনার আমায় ঠকিয়েছে জানার পর চেনা জানা অনেকেই আমায় নিয়ে হাসিঠাট্টা করতেন।যেন আমি আমার স্বামীকে অন্য মহিলাদের থেকে আড়াল করে রাখতে পারিনি।

কেন আমি তাঁকে সুখী করতে পারিনি। তাই আমায় ছেড়ে সে অন্য মহিলার কাছে গিয়েছেন। অনেকে অনেক বাজে বাজে মন্তব্য করেছিলেন। আমার সঙ্গী আমায় বাজেভাবে ঠকানোর পরেও কিন্তু আমি তাকে ছেড়ে যেতে পারিনি।কারণ অনেক দিনের সম্পর্ক আমাদের(Husband is estranged)।

Related Articles

Back to top button