টেকনোলজি

Jio 5G: ভারতেJio 5G লঞ্চ হচ্ছে, ফ্রিতে পরিষেবা পাবেন নাকি রিচার্জ করতে হবে?বিস্তারিত জানুন

Jio 5G: বর্তমানে আমরা তথ্য প্রযুক্তির উত্থানের যুগে বাস করছি। এই উত্থান ধীরে ধীরে বাড়বেই,যার পতন হয়ত আর কোনো কালেই হবে না।এই পরিবর্তনের ফলে মানুষ প্রতিনিয়ত তার আকাঙ্ক্ষিত জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পৃথিবী এখন প্রযুক্তি নির্ভর এবং এই নির্ভরতা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রযুক্তির নানা প্রক্রিয়া ও কৌশলকে কাজে লাগিয়ে জীবনকে আর সহজ করে তুলছে।

গত দুই দশকে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে। তথ্য প্রযুক্তি খুব সহজেই প্রজন্মভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার ব্যাপক বিস্তার হয়েছে। ইতিমধ্যেই পৃথিবী এখন পঞ্চম প্রজন্মের যোগাযোগ ব্যবস্থায় পা দিয়েছে। এর পরে দেশের মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের অভ্যাসে বড়সড় পরিবর্তন আসবে। প্রথমে 1G থেকে শুরু হয়ে 2G, 3G, 4G আর এখন তা 5G নেটওয়ার্কের যুগ শুরু হয়েছে।

 

আরও পড়ুনআপনার 5G ফোনে অদেও 5G ইন্টারনেট চলবে তো?

এই G আসলে কি?

এই G এর মানে ‘GENERATION’ অর্থাৎ ‘বংশপরম্পরা”। সেলুলার নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে G অক্ষরের মাধ্যমে জেনারেশন বোঝানো হয়। অর্থাৎ কোন প্রজন্মের নেটওয়ার্ক তা জানা যায়। 5G -র অর্থ এটা পঞ্চম জেনারেশনের মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি।অর্থাৎ যত সামনের জেনারেশনের দিকে যাওয়া হবে তত প্রযুক্তির দিক থেকে উন্নত হবে।

প্রতিটা জেনারেশনের ক্ষেত্রে স্পিড এবং প্রযুক্তি বদলে যায়, দেখা যায় যে স্পিড বদলানোর সাথে সাথে প্রযুক্তিও বদলায়। 4G নেটওয়ার্ক শুরুর পরেও আগের মতোই চলেছে 2G ও 3G নেটওয়ার্ক। এমন কি এখনও Jio ছাড়া সব সংস্থাই 2G পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিপুল সংখ্যক গ্রাহক এখনও 2G ফিচার ফোন ব্যবহার করেন। এই সব গ্রাহক 2G নেটওয়ার্কের উপরেই নির্ভরশীল। এছাড়াও দেশের সব প্রান্তে এখনও 4G নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি। সেই সব জায়গায় এখনও ভরসা 2G নেটওয়ার্ক।

1G নেটওয়ার্ক?

1979 সালে জাপানের রাজধানী টোকিও শহরে নিপ্পন টেলিগ্রাফ অ্যান্ড টেলিফোন (NTT) প্রথম জেনারেশনের মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে এসেছিল। এরপর 1984 সালে গোটা জাপানে এই নেটওয়ার্ক কভারেজ শুরু হয়েছিল। সেই প্রথম কোন দেশের সব জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক শুরু হয়। তখন এই 1G নেটওয়ার্ক থেকে শুধুই ভয়েস কল করা যেত। অন্য কোন নেটওয়ার্কে রোমিং সাপোর্ট পাওয়া যেত না।

2G নেটওয়ার্ক?

1991 সালে ফিন্যান্ডে GSM স্ট্যান্ডার্ড লঞ্চ হয়েছিল। এই 2G নেটওয়ার্কের মাধ্যমে SMS পাঠানো যেত। এছাড়াও MMS পাঠান যেত এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। এই নেটওয়ার্ক শুরু হতেই গোটা বিশ্বে মোবাইল ফোনের জনপ্রিয়তা হু হু করে বাড়তে শুরু করে।এখনও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় 2G নেটওয়ার্ক দেখা যায়।

3G নেটওয়ার্ক?

2001 সালে NTT DoCoMo 3G নেটওয়ার্ক লঞ্চ করেছিল। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই গ্রাহকের ফোনে ইন্টারনেট পৌঁছেছিল। যা স্মার্টফোনকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছিল। 3G নেটওয়ার্কের ফলে ইন্টারন্যাশনাল রোমিং সম্ভব হয়েছিল। ফোন থেকে ভিডিও কল, ইমেল, ভিডিও স্ট্রিমিং আরও সহজ হয়েছিল।

4G নেটওয়ার্ক?

2009 সালে সুইডেনের স্টকহোম ও নরওয়ের ওসলো শহরে প্রথম 4G নেটওয়ার্ক শুরু হয়েছিল। 3G নেটওয়ার্কের থেকে 4G নেটওয়ার্কে প্রায় দশ গুণ বেশি স্পিড পাওয়া গিয়েছিল। এই নেটওয়ার্ক লঞ্চের পরেই ফোন থেকে ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে ভিডিও কলিং জনপ্রিয়তা পায়। স্মার্টফোন বিপ্লবের অন্যতম প্রধান কারণ 4G নেটওয়ার্ক।

আর এখন সবাই অধির আগ্রহে 5G পরিষেবার জন্য বসে আছে।বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেট বা মোবাইলে রিচার্জ করা ছাড়া উপায় নেই।বর্তমানে প্রায় সকল টেলিকম সংস্থাই মোবাইল রিচার্জের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে বাজারে আকর্ষণীয় প্ল্যান লঞ্চ করা হয়েছে। তবে অনেকেই আবার জিও 5G পরিষেবা লঞ্চ করার আশায় বসে আছেন।তবে সেই দিন আর বেশি দূরে নয়।কারন খুব শীঘ্রই ভারতে 5G পরিষেবা লঞ্চ হচ্ছে।

জিও 5G পরিষেবা কবে চালু করা হবে?

সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর এয়ারটেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে চলতি মাসে অর্থাৎ আগস্ট মাসে 5G পরিষেবা চালু করা হবে। তাই টেক্কা দিতে জিও 5G পরিষেবা কবে চালু করা হবে সেই সম্পর্কিত ঘোষণা এই মাসেই করা হতে পারে। সূত্রের খবর ২৯ আগস্ট রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অ্যানুয়াল জেনারেল মিটিং বা AGM রয়েছে। সেই সময়ই এই নিয়ে বড় ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button