Home নিউজ প্রয়াত হলেন বাংলা সিনেমার বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

প্রয়াত হলেন বাংলা সিনেমার বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

নিউজ ডেস্কঃ প্রয়াত হলেন বাংলা সিনেমার বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।রবীবার দক্ষিণ কোলকাতার একটি বেসরকারী হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত‍্যাগ করেন তিনি।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।শুধুমাত্র সিনেমা নয় রাজনীতি, কবিতা, সাহিত্য সমস্ত ক্ষেত্রেই তাঁর ছিলো অবাধ দক্ষতা।

প্রবীণ এই অভিনেতার জন্ম ১৯৩৫ সালের জানুয়ারি মাসের ১৯ তারিখে।তাঁর পরিবারের আদিবাড়ি বাংলাদেশের কয়া গ্রামে।তবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের দাদুর আমল থেকে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নদীয়ার কৃষ্ণনগরে থাকতে শুরু করেন।অভিনেতার বাবার চাকরির বদলি সূত্রে ক্লাস ফাইভে পড়াকালীন তিনি হাওড়া চলে আসেন।এরপর কোলকাতা সিটি কলেজে বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।প্রথম দিক থেকেই কবিতা, সাহিত্য, রাজনীতির প্রতি তাঁর ছিলো ভীষণ ঝোঁক।তিনি নিজেকে শুধু সিনেমা জগতে আবদ্ধ রাখেননি বরং মেলে ধরেছিলেন সমস্ত দিকে।

আরও পড়ুন :  চাঁদ থেকে চ্যাংই ৫ এর আনা মাটি প্রকাশ্যে নিয়ে এল চীন, সেই চাদের মাটি

মহানায়ক উত্তম কুমারের পরই যার নাম করতে হয় তিনি হলেন সৌমিত্র।পাতলা গরনের,উজ্জ্বল চোখ ও মন খোলা হাসি দেখে যে কেউই মুগ্ধ হতে বাধ‍্য।বাঙাল ও ঘটির লড়াই যেমন উত্তম ও সৌমিত্র মূল কেন্দ্রে অবস্থান করতো,তেমনি ফ‍্যানেরাও দুভাগে ভাগ হতো।তপন সিংহার ‘ঝিলের বন্দী’ ছবিতে উত্তম ও সৌমিত্রর অভিনয় ছিলো চোখে পড়ার মতো।তবে দেবদাস, স্ত্রী, যদি জানতাম এসব ছবিতেও
দুজনের অভিনয় ছিলো অনবদ‍্য।

আরও পড়ুন :  রাত পোহালেই ফের ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ১৪৫ কিলোমিটার বেগে, জারি হয়েছে IMD সতর্ক বার্তা
আরও পড়ুন :  'এবার করনার শেষ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে', জানালেন হু প্রধান

সিনেমায় সৌমিত্রকে দেখা গিয়েছে কখনও রোমান্টিক নায়ক হিসেবে কখনও বা দেখা গিয়েছে মধ‍্যবিত্তের ঘরের সাদামাটা যুবক হিসেবে বাঙালির মনে দাগ টেনেছেন তিনি।সত‍্যজিৎ রায়ের ছবিতে অনবদ‍্য অভিনয় বিশ্ব দরবারে সৌমিত্রকে জনপ্রিয়তা অর্জনের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিল।১৯৫৯ সালে তাঁর প্রথম ছবি ‘ অপুর সংসার’এরপর আরো অনেক ছবিতে পরপর অভিনয় করেছিলেন তিনি।সত‍্যজিৎ রায় নাকি প্রথমবার সৌমিত্রকে ‘অপুর সংসার’এর সময় চিনতে পারেননি।পরে অবশ্য তাকেই পছন্দ হয়েছিল এমনটাই জানান এক সাক্ষাৎকারে সৌমিত্র।সত‍্যজিৎ ফেলুদা চরিত্র সৌমিত্রকে ভেবেই লিখেছেন।কারণ ফেলুদার ইলাস্ট্রেশন হুবুহু সৌমিত্রের মতো আর তাই বাঙালি ফেলুদা বলতে সৌমিত্র ছাড়া আর কাউকেই ভাবতে পারেন না।

আরও পড়ুন :  রাজ‍্যে ২৪ ঘন্টা ট‍্যাক্সি ধর্মঘট!কবে জেনে নিন।

সিনেমাকে তিনি এতটা ভালোবাসতেন যে করোনার সময়ও তার মন ছুটে যেতে চাইতো শুটিং ফ্লোরে।তিনি যে এই বয়সেও বড্ড সুন্দর অভিনয় করেছেন তার প্রমাণ ময়ূরাক্ষী,বেলাশেষে,সাজবাতি প্রভৃতি।এই প্রবীণ অভিনেতার প্রয়ানে শেষ হলো একটি যুগের।বাঙালি হারালো এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে। অপুরণীয় ক্ষতি হলো
বাংলা সিনেমা জগতের‌।

আপনাদের মতামত জানাতে কমেন্ট করুন

এই মুহূর্তে

- Advertisment -
- Advertisment -

ভাইরাল