Advertisement
নিউজ

Nadia News: আজব গ্রাম! গ্রামের নাম শুনেই পিছিয়ে যাচ্ছে পাত্রীপক্ষ, নদিয়ার এক গ্রামের যুবকদের বিয়েই হচ্ছে না

এক আজব গ্রাম আছে যে গ্রামের ছেলেরা শিক্ষিত, দেখতে-শুনতে ভাল এবং সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও পাত্রীরা বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে সেই গ্রামের ছেলেদের বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন পাত্রপক্ষরা।

Nadia News: ‘বাবা আমার কি বিয়ে হবে না এই গানের কথা যেন বাস্তব জীবনেও ঘটে চলেছে। এক আজব গ্রাম আছে যে গ্রামের ছেলেরা শিক্ষিত, দেখতে-শুনতে ভাল এবং সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও পাত্রীরা বিয়ে করতে রাজি হচ্ছেন না। ফলে সেই গ্রামের ছেলেদের বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন পাত্রপক্ষরা। হ্যাঁ এ রকম সমস্যায় পড়েছেন নদিয়ার নাকাশিপাড়া ব্লকের অন্তর্গত বীরপুর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোটাবড়িগাছি গ্রামের যুবকরা।

Advertisement

পাত্রের পৈতৃক বাড়ি আছে। চাষযোগ্য জমি, স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে রয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা। নিজেও কাজ করেন। তবুও সেই তাঁকে পাত্রস্থ করতে হিমসিম পরিবার। শুধু তিনিই নন। এমন সমস্যার পড়েছেন বহু বিবাহযোগ্য যুবক। এর কারণ আর কিছুই নয়, গ্রামের অবস্থা (Nadia News)।সমস্যাটা ঠিক কোথায় হচ্ছে, গ্রামের জন্য কেন বিয়ে হবে না?

Advertisement

আসলে এই গ্রাম প্রত্যন্ত এলাকায়।জানা গিয়েছে মোটাবড়িগাছি গ্রামের কোনও পাত্রের হাতে মেয়েকে তুলে দিতে রাজি হচ্ছেন না একাধিক পরিবার। সবাই গ্রামের পরিকাঠামোকে দায়ী করেছেন। গ্রামে রাস্তা, পানীয় জলের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই। বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিত্যসঙ্গী। সুতরাং উন্নয়ন এখানে রাস্তায় দাঁড়িয়ে নেই বলেই মনে করছেন পাত্রীদের পরিবার। তাই বিয়ে হচ্ছে না গ্রামের যুবকদের।

আরও পড়ুন :  বাংলায় করােনার গ্রাফ ফের আকাশ ছুঁতে চলেছে, দৈনিক সংক্রমণ ছাড়াল ১২০০
Advertisement

মোটাবড়িগাছি এই আজব’ গ্রামের বীরপুর ১ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় সাত হাজার মানুষের বসবাস। এই গ্রামে কেন্দ্র কিংবা রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ছিটেফোঁটা সুবিধাও এখানে পৌঁছায়নি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা এবং বাংলা আবাস যোজনাকে নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যতই সরগরম হোক, এখানে সে সবের বালাই নেই। কারণ অধিকাংশই বাড়িই কাঁচা। পুরুষদের পেশা বলতে মূলত চাষবাস এবং পশুপালন।কেউ এর বাইরে বেরোতে পারেননি।

Advertisement

শিক্ষার ব্যবস্থা বলতে দুটো স্কুল আছে বটে। তবে সে দুটিও পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার দূরে। সেই স্কুল ছাত্র-শিক্ষক অনুপাতের কারণে ধুঁকছে। এলাকার সিংহভাগ ছেলেমেয়ে ওই স্কুল দুটিতে পড়াশোনা করে। স্বাস্থ্য পরিষেবা বলতে বেথুয়াডহরি গ্রামীণ হাসপাতাল। যার ভৌগলিক দূরত্ব ২২ কিলোমিটার। আপদকালীন পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাটাও নেই। রাতবিরেতে ওই গ্রামে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিপাকে পড়েন।

সারা গ্রাম (Nadia News) ঘুরে একটি কংক্রিটের রাস্তাও চোখে পড়বে না।ভাঙাচোরা রাস্তা গাড়ি নিয়ে গেলে যন্ত্রপাতি খারাপ হয়ে যায়।বেশ কয়েকটি গ্রাম পেরোলে তবে ছোঁয়া যায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। এসব কারণে ক্ষুব্ধ গ্রামের মানুষজন। এইসব কারণে এই গ্রামের যুবকদের সঙ্গে বিয়ে দিতে নারাজ পাত্রীদের পরিবার।

ওই গ্রামের মালতী দেবীর ছেলের বয়স হয়েছে ৩০ বছর। সেই ছেলের বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। পাত্রীপক্ষ শর্ত দিয়েছে, ওই গ্রাম ছাড়লে তবেই হতে পারে বিয়ে। বিয়ের জন্য কি শেষে ভিটেমাটি ছাড়তে হবে? সেই গ্রামের বাসিন্দা রিনা দেবী বলেন, ছেলের বিয়ে দিতে পারছি না। কৃষিজমি-সহ অন্যান্য যা কিছু আছে তাতে দিন গুজরানে কোনও অসুবিধা হয় না। কিন্তু গ্রামের (Nadia News) নাম শুনলেই মুখ ফেরাচ্ছে সবাই।

নাকাশিপাড়া ব্লকের অন্তর্গত দোগাছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত। বীরপুর আসতে গেলে দোগাছিয়ার উপর দিয়েই আসতে হয়। এই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাটপুকুর স্ট্যান্ড থেকে মোটা বড়গাছি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খারাপ। যা সুখসাগর গোরস্থান পাড়ার রাস্তা নামেই পরিচিত। ওই এলাকায় পঞ্চায়েতের দুটি বুথ রয়েছে। যেখানে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ বসবাস করে।

গ্রামে যাতায়াতের বড় ভরসা টোটোর সংখ্যাও দিন দিন কমছে। টোটোচালকদের বক্তব্য, আমাদের এলাকার রাস্তাঘাট একদম ভাল নয়।ভাঙাচোরা রাস্তা নিয়ে গাড়ি নিয়ে গেলে যন্ত্রপাতি খারাপ হয়ে যায়। অধিকাংশই এ দিকে আসতে চায় না। দোগাছিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের (Nadia News)পাটপুকুর আর বীরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোটাবড়গাছি এই গোটা এলাকাই যেন অঘোষিত ভাবে সামাজিক বয়কটের শিকার।

এই বিষয় নিয়ে নাকাশিপাড়ার বিডিও কল্লোল বিশ্বাসের বক্তব্য, জাতীয় সড়ক থেকে ভিতর দিকে যেতে অনেকটা রাস্তার কাজ হয়েছে। তবে গ্রামীণ এলাকায় অনেক জায়গায় রাস্তার কাজ বাকি রয়েছে, কিছু মাটির রাস্তা রয়েছে। পঞ্চায়েতগুলো উদ্যোগ নিয়েছে দ্রুত এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দূর গ্রামের কোনও পরিবারই এই এলাকার লোকজনের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান না।মহা সমস্যায় নদিয়ার এই গ্রাম। বছর ঘুরলেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই অবস্থার কি পরিবর্তন হবে? উত্তর খুঁজছে বীরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মানুষজন। এখন সবাই আশায় বুক বেঁধেছেন পঞ্চায়েত (Nadia News) নির্বাচনের পর যদি তাদের কপাল খোলে।

Related Articles

Back to top button