ভাইরাল

ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমিকের মার্কশিট ভাইরাল, মাধ্যমিকে টেনেটুনে পাশ, দেখুন সেই মার্কশিট

ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনও অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। শুধু চিত্তকে ভয় শূন্য হতে হবে। আর সেই ইচ্ছাশক্তিকেই সম্বল করে নিজের জীবনের স্বপ্ন’কে সত্যি করা যায়। জীবনে যে কোনও প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে ইচ্ছাশক্তির ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই পৃথিবীতে কোন মানুষ নিখুঁত নয় কেউ সেটা হতেও পারে না। মানুষ নিখুঁত হয় নিজের আচারে ব্যবহারে, কর্মে, সাফল্যে! আত্মশক্তির জেরে যাঁরা স্বপ্ন পূরণ করে তাঁরাই তো আদতে নিখুঁত।

বছরের এই সময়টায় বিভিন্ন রাজ্যে পড়ুয়াদের একাধিক পরীক্ষার ফল বেরোচ্ছে। যেগুলির মধ্যে রয়েছে, দশম শ্রেণি এবং দ্বাদশ শ্রেণির মত পরীক্ষার ফলাফলও। এছাড়াও জয়েন্টের মত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার রেজাল্টও প্রকাশিত হয় এই সময়। এমতাবস্থায় অনেকেই রেজাল্ট অত্যন্ত ভালো করে জীবনের পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি শুরু করে নেয়।

আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে রেজাল্ট তুলনামূলকভাবে কিছুটা খারাপ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে বহু পড়ুয়া।যার ফলে পড়াশোনার উদ্যমও হারিয়ে ফেলে তারা।বাংলায় সদ্য প্রকাশিত হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ফলাফল। অনেকেই আশাতীত ফলাফল না করায় ভেঙে পড়েছেন। বহু অকৃতকার্য পাশ করানোর দাবিও তুলছেন। কিন্তু জীবনের একটা পরীক্ষাই যে সব শেষ করে দেয় না।

জীবনের অনেক ধাপেই সাফল্য তেমন উজ্জ্বল হয় না। সেখানেই কি সবটা শেষ হয়ে যায় কি? ভবিষ্যতের সব সম্ভাবনাই নষ্ট হয়ে যায়? এই চিন্তা যে কতোটা ভুল, তা প্রমাণ করে দেয় তুষারের এই মার্কশিট। আইএএস আধিকারিক অবনীশ শরণ সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতেই তুষার ডি সুমেরার মার্কশিট সামনে এনেছেন।কিন্তু কে এই তুষার? তিনি গুজরাটের ভারুচের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর।

কিন্তু ব্যাপারটা কী? এই মার্কশিট এক আইএএস অফিসারের (IAS Officer)। তাঁর নাম তুষার সুমেরা। বর্তমানে তিনি গুজরাটের ভারুচ জেলার ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর হিসাবে নিযুক্ত রয়েছেন।বর্তমানে তিনি একজন সফল IAS অফিসার হলেও তাঁর দশম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল জানলে চমকে উঠবেন আপনিও! ইতিমধ্যেই তাঁর সেই মার্কশিটটি ভাইরাল হয়েছে নেটমাধ্যমে।

Secondary Marksheet Viral


ইচ্ছেশক্তির এক অনন্য উদাহরণ তুষার। দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ইংরাজিতে ৩৫, অঙ্কে ৩৬ এবং বিজ্ঞানে ৩৮ নম্বর পাওয়া সেদিনের সেই ছেলেটা আইএএস আধিকারিক (IAS officer)। হ্যাঁ এই গল্প অনেকটা চমকে ওঠার মতই। যার রেজাল্টে একসময় সকলে বলতেন তাঁর দ্বারা কিছু হবে না।দেশের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় উতরে আজ তিনিই মস্ত বড় অফিসার। আইএএস আধিকারিক তুষার সুমেরার (Tushar Sumera) সেই রেজাল্ট আজ রীতিমত ভাইরাল নেটদুনিয়ায়।

তার রেজাল্ট দেখে নেটিজেনরা হতবাক! এত কম নম্বর পেয়ে যে পাশ করেছে, তার পক্ষে কি আইএএস হওয়া সম্ভব? কিন্তু তাঁদের যাবতীয় সংশয়ের নিরসন করেছেন তুষার নিজেই।কয়েকদিন ধরে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল গুজরাটের ভারুচের জেলাশাসক তুষার ডি সুমেরা, নিজের দশম শ্রেণীর বোর্ড পরীক্ষার মার্কশীট টুইটারে শেয়ার করেছেন তিনি নিজেই।

বিভিন্ন বোর্ড এর পরীক্ষার ফল কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশিত হবে। তার আগে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহিত করতেই নিজের দশম শ্রেণির মার্কশিট শেয়ার করেছেন ওই আইএএস অফিসার।তিনি বলেছেন মন দিয়ে পড়াশোনা করলে সব পরীক্ষায় পাশ করা সম্ভব।দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ভাল ফল না হলেও দমে যাননি তিনি। মন দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন।

আশপাশের মানুষের বহু সমালোচনা, কটাক্ষ পার করে নিজের জেদে নিজেকে গড়ে তোলার অসামান্য কীর্তি রেখেছেন আইএএএস অফিসার। নিজে নিজেই ইংরাজি ও অঙ্ক শিখেছেন। শুধু শেখাই নয়, ইউপিএসসির (UPSC) মতো কঠিন পরীক্ষায় পাশও করেছেন।সব অসম্ভবকে সম্ভব করার তীব্র ইচ্ছে, আর জেদের জোরে ২০১২ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হন তুষার।তুষারের এমন কাহিনি শুনে আপ্লুত নেটিজেনরা।

তুষার বুঝিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের নিরিখে জীবনের গতিপথ নির্ধারিত হয় না। ২০১২ সালে IAS অফিসার হন তুষার ডি সুমেরা। তিনি আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করে স্নাতক পাশ করেন। এমনকি UPSC পরীক্ষায় পাশ করার আগেই স্কুল শিক্ষকতার কাজ করেছেন তুষার।সব মিলিয়ে তুষারের এই মার্কসিট স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে বিরাট অনুপ্রেরণা।

সম্প্রতি ছত্তিশগড় ক্যাডারের আইএএস অফিসার অবনীশ শরণ আবার তুষারের মাধ্যমিক মার্কশিট সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।পাশাপাশি তাঁর এই উত্তরণকে কুর্ণিশও জানিয়েছেন তিনি। অবনীশ শরণের ওই টুইটের পরিপ্রেক্ষিতে রি-টুইট করে লিখেছেন তুষার “ধন্যবাদ স্যার।” ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারুচের প্রসঙ্গে তুষারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

মাধ্যমিক পরীক্ষায় এত কম নম্বর পেয়েও নিজের মেধা ও অধ্যাবসায় দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন তুষার।কঠোর পরিশ্রম করলে সাফল্য আসবেই, এই কথাই যেন ফের মনে করিয়ে দিল তুষারের জীবন কাহিনি।শুধু তুষারই নয়, যে কোনো পড়ুয়ার ক্ষেত্রে এটি কার্যকরী হতে পারে।

Related Articles

Back to top button