আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলো কী?

আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলো কী

জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে…লিখেছেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। জীবনে মুক্তিলাভ নানা ভাবে সম্ভব,আক্ষরিক অর্থে মৃত্যুতে জীবনের মুক্তি নয়।এখনও কিন্তু আমাদের দেশে ইচ্ছামৃত্যু বৈধ নয়।আমার দ্বারা কিছু হবে না বা এ জীবনে আমার আর পাওয়ার কিছু নেই, এভাবে বেঁচে থেকে লাভ কি… এসব থেকেই আসে আত্মহত্যার প্রবণতা।চিকিৎসা পরিভাষায় যা মানসিক অবসাদের কারণ হিসেবেই চিহ্নিত হয়। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় দশ লক্ষ মানুষ আত্মহত্যা করেন।সামাজিক এবং অবস্থানগত কারনের উপর নির্ভর করে আত্মহত্যার প্রবণতা।

Advertisement

সামাজিক জীবন, ক্যারিয়ার সব কিছু মিলিয়ে হাজারও মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। ক্লাস ফাইভ থেকে হাজারও প্রতিযােগিতামূলক পরীক্ষা, প্রেমে ব্যর্থতা, মেয়েদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকার ইফটিজিংয়ের শিকার হওয়া, ধর্ষণ, হাজারটা সমস্যা। আর কালচারের বিভিন্ন উপাদানে প্রতিনিয়ত দেখানাে হয় মানসিক চাপ থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে আত্মহত্যা।এমনকি নাটক-সিনেমা-সাহিত্যে বহুকাল আগে থেকেই আত্মহত্যাকে একটি নায়কোচিত কাজ হিসেবে দেখানাে হয়।নাটক,সিনেমা,বই,সংবাদপত্র সব জায়গায় যখন সে দেখতে পায় তার মতােই পরিস্থিতিতে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন, তখন তার মাথায়ও নিজের অজান্তেই ব্যাপারটি গেথে যায়। আর কোনাে সমাধান না খুঁজে সবচেয়ে সহজ সবচেয়ে প্রচলিত সমাধানটিকেই সে বেছে নেয়। ফলে আরেকটি আত্মহত্যা, আরেকটি গল্পের নায়ক, আরেকটি সংবাদের শিরােনাম।

সংবাদমাধ্যম গুলােতে একটি আত্মহত্যা করার পেছনের কারণকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যে, কোনাে পাঠকের কাছে মনে হবে তার পরিস্থিতিতে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনাে পথ খােলা ছিল না।অনেকে আবার বলে আত্মহত্যা মহাপাপ,এটা না করলেও পারত।কিন্তু এসবের কোনােটাই পরবর্তী আত্মহত্যা রােধ করতে পারবে না।তাই সময় এসেছে আত্মহত্যার পরে সহমর্মিতার চেয়ে আত্মহত্যার আগেই সহযােগীতার মাধ্যমে সুন্দর জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা দরকার।প্রায় সবক্ষেত্রেই আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলাে ঘুরেফিরে একই।

খারাপ রেজাল্ট, প্রেমে ব্যর্থতা,ইফটিজিং, ধর্ষণ এসব থেকেই মানসিক অবসাদ,অবশেষে আত্মহত্যা।তাই আপনার ছেলেমেয়ে, বন্ধু.ছােটভাই যখন এ ধরনের কোনাে না কোনাে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, তার দিকে নজর দিন। তার মানসিক অবস্থার খেয়াল রাখুন। কেউ একদিনেই আত্মহত্যা করে না। অনেক অনেক দিনের চাপা মানসিক কষ্টই একদিন আত্মহত্যায় প্ররােচিত করে।যদি বুঝতে পারেন আপনার প্রিয়জন দীর্ঘদিন কোনাে মানসিক চাপে আছে। কারণ জেনে সমাধান করার চেষ্টা করুন।যদি মনে করেন আপনার চেষ্টা সত্ত্বেও তার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না, তাহলে অবশ্যই একজন মনােরােগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। আত্মহত্যার প্রবণতা চিকিৎসা বিজ্ঞানে একটি মানসিক সমস্যা।

প্রধান সমস্যা হল সিস্টেম ও কালচারের, সেই সিস্টেম ও কালচার পরিবর্তন না হলে এ সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি কোনাে সমাধান সম্ভব নয়।তাই ক্লাস ফাইভ থেকে শুরু বাের্ড পরীক্ষার নামে অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করা উচিত। যতদিন বন্ধ না হয় অভিভাবকদের উচিত শিশুদের রেজাল্ট জানার নামে হয়রানি বন্ধ করা।গল্প,উপন্যাস ও সিনেমাতে ‘প্রেম, সত্যিকারের ভালােবাসা’ নামক উপাদানগুলাের উপস্থিতি কমানাে। মানতে কষ্ট হলেও এটিই সত্যি যে, এই বাস্তবতা বিবর্জিত উপাদানগুলাের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখে না। আত্মহত্যার প্রধান কারণের একটি অবশ্যই এই প্রেমে ব্যর্থতা।

এছাড়া ইফটিজিং নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে এখন দেশে কঠোর আইন রয়েছে, দরকার সে আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন। সামাজিকভাবে একজন নির্যাতিতার পুনর্বাসনে দরকার সমাজের প্রত্যেকের সহযােগিতা। এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে এসে পড়ে এসব আইনের অপব্যবহার রােধের বিষয়টি। নারী নির্যাতন প্রতিরােধে সময়ের প্রয়ােজনে তৈরি হওয়া আইন বর্তমানে অপব্যবহার হচ্ছে অনবরত। এসব বন্ধ হলেই কিছুটা হলেও আত্মহত্যা রােধ করা সম্ভব হবে।

Advertisement

News Desk

Sakalerbarta.com is a regional Bengali news portal. It was founded on 14 September 2020. sakalerbarta.com News is a great source of information for everyone. We provide information on Latest News, educational News, current affairs, current topics News, and trending News. Our main goal is to give information that can be used responsibly. We are not affiliated with any government organization and do not host any government website.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *