দুঃসংবাদ! আর ফ্রিতে WhatsApp নয়, কেন টাকা দিয়েই এই পরিসেবা ব্যবহার করতে হবে? সরকার নতুন আইনের পথে

একটা সময় মানুষ যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চিঠির উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে মানুষের জীবনে নানা পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষ খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে যে কোন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হচ্ছে। এখন চিঠি পরিবর্তে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নানা বিকল্প পথ রয়েছে। যেগুলির সাহায্যে সহজেই যোগাযোগ করা সম্ভব।

প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে অনেক নতুন নতুন ডিভাইসের জন্ম হয়েছে। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-ফেসবুক, টুইটার, ভাইবার, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ সহ আরো অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এই যোগাযোগ মাধ্যম গুলির সাহায্যে দেশের ভিতর ও দেশের বাইরে সহজেই যোগাযোগ করা যায়। বর্তমান সময়ের একটি জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হল হোয়াটসঅ্যাপ।

Advertisement

বর্তমান সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন না এমন মানুষ হয়ত নেই। হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের তেমন কোন বিশেষ নিয়ম নেই। তাই যে কেউ সহজেই এই অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। তাই যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বেশিরভাগ মানুষ হোয়াটসঅ্যাপকেই বেশি পছন্দ করেন। যত দিন যাচ্ছে এর জনপ্রিয়তা ততই বাড়ছে।

হোয়াটসঅ্যাপের প্রথম যাত্রা ২০০৯ সালে শুরু হয়। তখন এই অ্যাপ তেমন জনপ্রিয় ছিলনা।তবে বর্তমানে এটি বিশ্বব্যাপি বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।প্রথমদিকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র মেসেজ করার সুযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভিডিও, ভয়েস কল, লোকেশন এবং ডকুমেন্টস পাঠানো সহ আরো বেশ কিছু চমকপ্রদ ফিচার রয়েছে।

এছাড়াও এতে রয়েছে ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন’ সিকিউরিটি অপশন। এর ফলে এখানের সমস্ত চ্যাট ব্যক্তিগত ও গোপনীয়তা বজায় রাখে। গ্রাহকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই অ্যাপে মাঝে মধ্যেই নানা নতুন ফিচার আনা হয়।দীর্ঘদিন ধরে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং দুনিয়ায় WhatsApp শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। প্রতিযোগীদের থেকে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে Meta-র এই মেসেজিং অ্যাপ।

তবে এবার WhatsApp ব্যবহারকারীদের জন্য খারাপ খবর রয়েছে। খুব শীঘ্রই টেলি আইনে অনেক বদল আনতে চলেছে সরকার। শীঘ্রই WhatsApp, Facebook, Google Duo এর মত ফ্রি কলিং এবং ম্যাসেজিং অ্যাপকেও টেলিকম আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। আর এই প্রক্রিয়াকে জলদি জলদি সম্পন্ন করার জন্য একটি বিল আনা হচ্ছে।

এই আইনের সাহায্যে এমন কিছু পরিষেবা টেলিকম আইনের আওতায় আসবে যেগুলি এতদিন খুব বেশি রেগুলেটেড থাকেনি। মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই খসড়া টেলিকমিউনিকেশন বিল ২০২২-এ এরকম অনেক প্রস্তাব পেশ করেছে। এই ইন্টারনেট-ভিত্তিক কলিং এবং মেসেজিং পরিষেবাগুলি টেলিকম আইনের আওতায় আসার পরে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর তার প্রভাব পড়বে।

দেশের বিভিন্ন OTT পরিষেবাগুলিও এবার টেলিকম পরিষেবাগুলির একটি অংশ হিসাবে বিবেচিত হবে। এবার থেকে এই সমস্ত কোম্পানিগুলোকে পরিষেবাগুলি প্রদান করার জন্য লাইসেন্স এর প্রয়োজন পড়বে। খসড়া বিল অনুসারে এই পরিষেবাগুলি দেওয়ার জন্য সংস্থাগুলিকে একটি লাইসেন্সের জন্য ফি জমা দিতে হবে। আর সরকারের এই সিদ্ধান্তের জন্য মোবাইল ব্যবহারকারীদের পকেটের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।

তবে কি এবার থেকে বিনামুল্যে WhatsApp করা যাবে না?

সাধারণত এই সমস্ত অ্যাপের ক্ষেত্রে কোনো টাকা লাগে না। কিন্তু এই বিল আসার পর হোয়াটসঅ্যাপ বা কলিং পরিষেবা সরবরাহকারী অন্য যে কোনও সংস্থা অতিরিক্ত চার্জ নেবে পরিষেবা দেওয়ার জন্য। অথবা তারা কিছু পেড মেম্বারশিপ শুরু করবে। কারণ এই লাইসেন্স নেওয়ার জন্য তাদের কিছু অর্থ খরচ করতে হয়, সেটাই তারা গ্রাহকদের থেকে আদায় করবে।

এই নতুন টেলিকম আইন আনার কারণ কী?

১) ভবিষ্যতে আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করা এবং টেলিকম ক্ষেত্রকে পুনরায় বড় করে তোলা।

২) স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনার জন্য আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করা।

৩) সাইবার নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য হুমকি মোকাবেলার প্রস্তুতি নেওয়া।

৪) টেলিকম এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের উপর জরিমানা ধার্য করা যাতে আরও ভালো পরিষেবা দেওয়া যায়।

এই আইনের আওতায় কোন কোন ক্ষেত্রে আসবে?

এই আইনের আওতায় আসবে Facebook, WhatsApp, Google Duo, Google Meet, Telegram এবং Zoom-এর মতো পরিষেবাগুলি। তাছাড়া বিভিন্ন ব্রডকাস্টিং পরিষেবা, ইমেল, ভয়েস, ভিডিও এবং ডেটা যোগাযোগ পরিষেবা, ভয়েস মেইল, ফিক্সড এবং মোবাইল পরিষেবা, ইন্টারনেট এবং ব্রডব্যান্ড পরিষেবা, অডিওটেক্স পরিষেবা, ভিডিওটেক্স পরিষেবা, স্যাটেলাইট ভিত্তিক যোগাযোগ পরিষেবা, ওয়াকি-টকি সবই এই আইনের আওতায় আসবে।

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন যে নতুন টেলিকম বিল দেশের শিল্প ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের রোডম্যাপ প্রস্তুত করবে। আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকার জনগণের কাছে এই বিষয়ে পরামর্শও চেয়েছে। এই ইন্টারনেট ভিত্তিক কলিং এবং মেসেজিং পরিষেবাগুলি সত্যি যদি টেলিকম আইনের আওতায় আসে,তবে মোবাইল এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর তার প্রভাব পড়বে।

Advertisement

Probir Biswas

Hi. আমি প্রবীর বিশ্বাস, আমি সকাল বার্তা নিউজ পোর্টালে মোবাইল গেজেট ও টেকনিক্যাল নিউজ সম্পর্কে লেখালেখি করি। যদি আপনার আমার লেখাগুলো ভালো লেগে থাকে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ

Related Articles