আধার কার্ডের জালিয়াতি প্রতিরোধ করতে কার্ড ধারকদের এই ৫ টি সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার

বর্তমানে আধার কেবলমাত্র একটি পরিচয়পত্র নয়, দেশের একজন নাগরিকত্বের প্রমাণ হয়ে উঠেছে। একজন ভারতীয় নাগরিকের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় নথিগুলির মধ্যে একটি হল আধার কার্ড। যা তাদের পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করে।আবার ব্যাঙ্কের কাজ থেকে শুরু করে অন্য যে কোনও কাজ সবেতেই আধারের বিশেষ প্রয়োজন। আধার কার্ড সবার জন্যই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আধার হল একটি 12 সংখ্যার অনন্য পরিচয় নম্বর যা ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI) দ্বারা জারি করা হয়। অন্যান্য আইডি প্রুফ থেকে আলাদা আধার কার্ড।কারন এতে নাগরিকের বায়োমেট্রিক তথ্য রয়েছে। যাতে নাগরিকের আঙুলের ছাপ, চোখের রেটিনা স্ক্যান করা থাকে। আধার কার্ড কেবল এখন শুধু বড়দের জন্য নয়, শিশুদের জন্যও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি হয়ে উঠেছে।

Advertisement

তবে আধার কার্ড নিয়ে দেশ জুড়ে জালিয়াতির ঘটনা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। আধারের ক্রম বর্ধমান প্রয়োজনীয়তার কারণেই আর্থিক জালিয়াতি বা প্রতারণার ঝুঁকিও দিন দিন বাড়ছে। তাই আধার কার্ডের ব্যবহার নিয়ে মানুষের মনে নানা প্রশ্ন উঠছে।অবশ্য আমাদের অবহেলার কারণেই আমাদের আধারের বিবরণ অনেক সময় ভুল হাতে না পড়ে যায়। এরফলে সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আমাদের সকলের আধার সম্পর্কিত তথ্যের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রয়োজন।

আপনার আধার কার্ডেও উঁকি দিচ্ছে না তো প্রতারকরা। আধার ব্যবহারকারীদের অবশ্য আগে ভাগেই সতর্ক করে দিয়েছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া ( UIDAI )। তাই ঠগদের প্রতারণা থেকে বাঁচতে অবশ্যই এই পরামর্শগুলি মেনে চলুন-

১)আধার গ্রহণ করার আগে তার বিবরণ যাচাই করে নিন:-

আধারের অস্তিত্ব যাচাই করতে আধার নম্বর এবং ক্যাপচা দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। তাই আধার ধারকদের আধারের বিশদ বিবরণ পরীক্ষা করতে এবং সত্যগুলি নিশ্চিত করতে পারেন। যে কোনো উপস্থাপিত আধার নম্বর সহজেই যাচাই করা যায়।

২)আপনার আধার ওটিপি কখনই শেয়ার করবেন না:-

যে কোনো স্থান থেকে আধার প্রমাণীকরণ ব্যবহার করার একটি সহজ এবং নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হল আধার ওটিপি। এই ওটিপি আপনি ব্যবহার করার পর এটি অন্য কাউকে দেবেন না। প্রয়োজনে আপনি নিজের আধারের সাথে যুক্ত মোবাইল নম্বরটি স্ক্যান এবং যাচাই করতে পারেন।

৩)ই-আধার ডাউনলোড করার পরে আধার ফাইল মুছে ফেলুন:-

UIDAI আধার কার্ড হোল্ডারদের ই আধার ডাউনলোড করতে ইন্টারনেট ক্যাফে বা অন্য কোনও পাবলিক কম্পিউটার ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছে। যে কম্পিউটারে আপনি প্রয়োজনীয় কাজের জন্য ই-আধার ডাউনলোড করেছেন সেই কম্পিউটারে ফাইলটি ফেলে রাখবেন না। কাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা মুছে ফেলুন। ই-আধার কপি মুছে ফেলার পরে এটি রিসাইকেল বিন থেকেও মুছে ফেলুন। যাতে কেউ এটির অপব্যবহার করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৪)অপব্যবহার রোধ করতে আধার লক করুন:-

আধার ধারকরা প্রয়োজনের সময় সহজেই বায়োমেট্রিক্স আনলক করতে পারেন এবং কারও দ্বারা সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধ করতে তাদের আধার লক করতে পারেন। আপনার ডিআইডি কাছে রাখুন, যদিও এটি প্রয়োজন হবে। আধার নম্বরের সাথে লিঙ্ক করা হল VID (ভার্চুয়াল আইডি), একটি 16 সংখ্যার প্রত্যাহারযোগ্য র্যান্ডম নম্বর। একটি আধার নম্বর ব্যবহার করার পরিবর্তে VID প্রমাণীকরণ বা ই-কেওয়াইসি পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫)ফোন নম্বর আপডেট করুন:-

আধারে সব সময় মোবাইল নম্বর আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি সর্বদা আপনার সঠিক মোবাইল নম্বর এবং ইমেল ঠিকানা যাচাই করতে পারেন, যা আপনার আধার বিবরণের সাথে লিঙ্ক করা আছে।

Advertisement

Probir Biswas

Hi. আমি প্রবীর বিশ্বাস, আমি সকাল বার্তা নিউজ পোর্টালে মোবাইল গেজেট ও টেকনিক্যাল নিউজ সম্পর্কে লেখালেখি করি। যদি আপনার আমার লেখাগুলো ভালো লেগে থাকে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ

Related Articles