WB Pension Scheme: সমস্ত মহিলাকে বিনামূল্যে আজীবন পেনশন দেবে রাজ্য সরকার, কিভাবে আবেদন করবেন দেখুন

অবিবাহিত বিধবা, বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যার পারিবারিক পেনশন আমৃত্যুকাল পেয়ে যাবেন যদি অবিবাহিত থাকেন

WB Pension Scheme: রাজ্যের মহিলাদের সুরক্ষিত করতে এবার বিনামূল্যে পেনশন দেবে সরকার। অবিবাহিত বিধবা অথবা বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যা যাদের বয়স ২৫ বছরের বেশি তারা এই পেনশন পাবেন। তবে তাদের মাসিক আয় ৩,৫০০ টাকার বেশি যেন না হয়। অবিবাহিত বিধবা, বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যার পারিবারিক পেনশন আমৃত্যুকাল পেয়ে যাবেন যদি অবিবাহিত থাকেন। তারা যদি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তাহলে এই পেনশন আর পাবেন না।

বিধবা কিংবা ডিভোর্সি কন্যার ক্ষেত্রে এই পেনশন ১০/০১/২০০৮ তারিখ থেকে কার্যকর হয়েছে। আর অবিবাহিত কন্যার ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়েছে ১৩/০৪/২০১০ তারিখ থেকে। যদি আপনি যোগ্য হন আর আপনার কাছে প্রয়োজনীয় সব রকম নথিপত্র থাকে তাহলে আপনিও এই পারিবারিক পেনশন পাবেন। অবিবাহিত, বিধবা, বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যারা কিভাবে এই পেনশন পাবেন বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক।

Advertisement

এই পেনশন (WB Pension Scheme)পাওয়া যাবে কিভাবে?

এই পেনশন এর জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করতে হবে। প্রয়াতঃ মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক/অশিক্ষক কর্মচারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাতে হবে। আর প্রয়াতঃ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ডিআই অফ স্কুলস- এর নিকট আবেদন জানাতে হবে। উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন জানাতে হবে।

আবেদন করার জন্য কি কি নথিপত্র দরকার?

এই পেনশনে আবেদন জানানোর জন্য বেশ কিছু নথিপত্র সহকারে আবেদন জানাতে হবে। নথিপত্রগুলি সঠিকভাবে প্রদান করলে সেগুলি যাচাই হবার পরেই তিনি পেনশন (New Pension Scheme) পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। যে সকল নথিপত্র লাগবে সেগুলি হল-

১) আবেদনকারীর ভোটার কার্ডের জেরক্স কপি।

২) বাবা এবং মা এর ডেথ সার্টিফিকেট এর জেরক্স কপি।

৩) বিধবা কন্যার ক্ষেত্রে তার স্বামীর ডেথ সার্টিফিকেট এর জেরক্স কপি।

৪) আবেদনকারীর বাবা এবং মায়ের পিপিও অর্থাৎ পেনশন পেমেন্ট অর্ডার কপি।

৫) বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যার এর ক্ষেত্রে তার কোর্ট এর ডিভোর্স সার্টিফিকেট এর জেরক্স কপি।

৬)আবেদনকারী কন্যার সম্প্রতি তোলা ৪ (চার) কপি কালার পাসপোর্ট সাইজের ফটো।

৭) আবেদনকারীর নিজের স্বাক্ষর।

৮) রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে পেনশন এর অ্যানেক্সার এর- ৪ (চার) কপি ।

৯) আবেদনকারীর ডেসক্রিপটিভ রোল- ৪ (চার) কপি ।

১০) আবেদনকারীর মাসিক আয় যে মাসে ৩৫০০ টাকার কম সেই মাসের তথ্য কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের কোন গেজেটেড অফিসার এর দেওয়া শংসাপত্র দাখিল করতে হবে।

‘পেনশন পেপার’ তৈরি করবেন কিভাবে?

উক্ত নথিগুলিসহ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদনকারীকে আবেদন করতে হবে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পেনশনের (New Pension Scheme) জন্য নির্ধারিত ফর্ম এ ‘পেনশন পেপার’ তৈরি করে মৃত কর্মচারীর সার্ভিস বুক সহ ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর অফ স্কুলস অফিসে পাঠাবেন অনুমোদনের জন্য। ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর অফ স্কুলস সমস্ত নথিগুলি দেখে সন্তুষ্ট হওয়ার পর তা ডিপিপিজি- তে পাঠাবেন।

সার্ভিস বুক সংক্রান্ত তথ্য না পাওয়া গেলে কি করবেন?

যদি মৃত কর্মচারীর সার্ভিস বুক এবং পেনশন পেপার সংক্রান্ত তথ্য অর্থাৎ ‘পেনশন অ্যাডমিসিবিলিটি পেপার বা পিপিও’ ইত্যাদি না পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে বিষয়টি বিস্তারিত লিখে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর মাধ্যমে অর্থ দপ্তরের কাছে পাঠাতে হবে। যাতে সার্ভিস ছাড়া ডিপিপিজিতে পেনশন কেস পাঠানো যায়। এই সকল তথ্যগুলি যেসব সরকারি অর্ডারের ভিত্তিতে লেখা হল তার ‘অর্ডার কপি’ নাম্বারগুলি নিচে দেওয়া হলঃ G.O. NO 39 SE (B) তারিখ 10.01.2008, G.O. NO 95 (80) SE (B) তারিখ 13.04.2010 এবং G.O. NO 96 SE (B) তারিখ- 13.04.2010.

কোন অর্ডারটি কবে বেড়িয়েছে?

যেই সকল কন্যার বাবা এবং মা ১০/০১/২০০৮ এর আগে গত হয়েছেন তাদের কন্যা যদি বিধবা অথবা বিবাহ বিচ্ছিন্না হন তাহলে এই পেনশন পেতে পারেন।তবে এক্ষেত্রে শিক্ষা দপ্তরের অনুমোদন প্রয়োজন। [G.O. NO 621 F (Pen) তারিখ- ১৮/০৭/২০০৭ যদি কোন শিক্ষক/অশিক্ষক কর্মচারীর প্রতিবন্ধী সন্তান থাকে এবং তাদের কোনও রকম আয় করার ক্ষমতা না থাকে সেক্ষেত্রে ওই প্রতিবন্ধী সন্তান পারিবারিক পেনশন পাবেন, তার অবর্তমানে বিধবা/বিবাহ বিচ্ছিন্না কন্যা পাবেন এই পেনশন। [G.O NO তারিখ ২৭/৭/২০০৮]

তবে কোন পরিবারের ছোট মেয়ে বিধবা হওয়াতে পারিবারিক পেনশন (WB Pension Scheme) পাচ্ছেন, তারপর যদি বড় মেয়ে বিধবা হয়, এই ক্ষেত্রে ছোট মেয়ে যদি পুনরায় বিবাহ করেন অথবা মারা যান, ফলে পারিবারিক পেনশন বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সেক্ষেত্রে বড় বিধবা মেয়ে পারিবারিক পেনশন পাবেন।পেনশন (New Pension Scheme) পাওয়ার ব্যাপারে অনেক রকম খুঁটিনাটি নিয়ম কানুন রয়েছে।

এই সব নিয়ম কানুনগুলো প্রত্যেকেরই জেনে রাখা প্রয়োজন। অর্থাৎ যারা চাকরীরত বা চাকরীপ্রার্থী প্রত্যেকেরই বেশ ভালোভাবে এই নিয়ম জেনে রাখা উচিৎ। কিন্তু আদতে যেগুলো হয়তো আমরা অনেকেই জানেন না। এরফলে অনেকেই এই পেনশন পাওয়ার যোগ্য থাকলেও শুধুমাত্র না জানার কারণে পেনশন (WB Pension Scheme) পায় না।আপনি বা আপনার পরিবারে যদি এই পেনশন পাওয়ার মত যোগ্য কেউ থাকে তাহলে তাকে এই পেনশন সম্পর্কে জানান।যাতে সে এই পেনশনের সুবিধা নিতে পারেন।

Advertisement

Related Articles