RBI এর বড় ঘোষণা। এবার থেকে PPF Account বা যে কোনো PF থাকলেই বিরাট সুবিধা মিলবে

PPF Account: কোভিড ১৯ এর কারনে বিগত দুবছরে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। এই অতিমারীর কারনে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দুবেলা অন্ন জোগাড় করাই অনেকের কাছে খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। মানুষ আবার তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। কলকারখানা খুলে যাওয়ার ফলে কর্মহীন মানুষ আবার তাদের কর্ম ফিরে পেয়েছেন।

তবে ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতির সন্মুখিন না হতে হয়, তার জন্য আগে থেকেই ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করে রাখা প্রয়োজন। যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও অর্থের অভাব না হয়। আর ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হল বিনিয়োগ। তাই সঠিক সময়ে বিনিয়োগ করে আপনার ও পরিবারের ভবিষ্যত সুনিশ্চিত করুন।তবে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে কোথায় বিনিয়োগ করবেন অনেকের মাথায় এই প্রশ্ন আসে।

Advertisement

তবে বিনিয়োগের জন্য চাকরিজীবিদের একমাত্র পছন্দ পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিপিএফ (PPF Account)। এর পিছনে বিশেষ কিছু কারণও আছে। ভালো সুদের হার, রিটার্নের নিশ্চয়তা এবং ট্যাক্সের সুবিধার কারণে অনেকেই এই প্রভিডেন্ট ফান্ডে আস্থা রাখেন। এছাড়া অবসরকালীন সময়, ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা, বিয়ে এবং অন্যান্য লং টার্ম বিনিয়োগের জন্যেও দেশবাসী এখন পিপিএফ এর ওপরেই ভরসা রাখেন।

পিপিএফ এর পুরো কথা হচ্ছে পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড (PPF Account)। এটা একটা দীর্ঘ মেয়াদি ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান। যারা ঝুঁকি ছাড়া বেশি করে রিটার্ন পেতে চান, তাদের জন্য পিপিএফ একটি বিশেষ প্ল্যান। আপনার মূলধনকে ঠিক রেখে বাড়তি সুদ পেতে চান তাহলে পিপিএফ এ বিনিয়োগ করুন। পোস্ট অফিস বা ব্যাঙ্ক যে কোনও জায়গাতেই পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খোলা যেতে পারে।

পিএফ, ইপিএফ, জিপিএফ, PPF Account বা প্রভিডেন্ড ফান্ড এর কথা আমরা সকলেই জানি। যারা সরকারি কর্মী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে কাজ করেন তাদের রাজ্য সরকার বেতনের একটা নির্দিষ্ট অংশ জেনারেল প্রভিডেন্ড ফান্ড (GPF) বাধ্যতামূলক ভাবে জমা করিয়ে থাকে।আর যারা বেসরকারি সংগঠনে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে হয় ইপিএফও। এক্ষেত্রেও একই নিয়ম থাকে।

পিপিএফ এর সুবিধা কী কী?

১)সঞ্চয়ের জন্য ভাল বিকল্প হল পিপিএফ।
২)পিপিএফ এ বিনিয়োগে কোনও ঝুঁকি থাকে না।
৩)এতে ভাল রিটার্নও পাওয়া যায়।
৪)পিপিএফে সরকারি গ্যারান্টি থাকে।
৫)ম্যাচুরিটি ভ্যালু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর প্রাপ্ত অর্থের উপর কোনও কর ধার্য করা হয় না।

এবার থেকে PPF Account বা যে কোনো PF এর ক্ষেত্রে মিলবে নতুন সুবিধা। পিপিএফ হল একটি স্বাধীন প্ল্যান যেখানে কোনো ব্যক্তি বার্ষিক সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবেন। একাউন্ট চালু রাখার জন্য বছরে একবার করে টাকা জমা করতেই হবে।এর অর্থ তিনি মাসিক ভিত্তিতে বা একবারেও জমা তার সুবিধামতো জমা করতে পারবেন।

কত বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে পারবেন?

একজন ১২ বছর সময়কালের জন্যই এই বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই একাউন্ট ১৫ বছরের জন্য লক থাকবে। এর মধ্যে বিশেষ কারণ ছাড়া কোন টাকা তোলা যাবে না। তবে আপনি জমা টাকার ওপরে লোন নিতে পারবেন।

কত দিন পরে লোন পাওয়া যাবে?

PPF Account এর বিনিময়ে লোন পাওয়া যেতে পারে।তবে ৩ বছর একাউন্টটি চালু থাকার পরেই এই লোনের সুবিধা দেওয়া হয়। এর মধ্যে পিপিএফ একাউন্টে জমা হওয়া মোট টাকার ২৫% পর্যন্তই লোন নেওয়া সম্ভব। তবে সর্বোচ্চ ৩৬ মাসের জন্যই এই লোন দেওয়া হয়ে থাকে।

এই একাউন্ট কারা খুলতে পারবেন?

যে কোনো ভারতীয় নাগরিক এই একাউন্ট করতে পারবেন। এছাড়াও ১৮ বছর না হলেও PPF Account খোলা সম্ভব। তবে সেক্ষেত্রে বাবা অথবা মাকে তার হয়ে লেনদেন করতে হবে। কোন NRI এই একাউন্ট করতে পারবেন না। তবে আগে কোনো একাউন্ট খুলে থাকলে তা চালু থাকবে।

পিপিএফের অন্যান্য সুবিধা?

এই PPF Account এর ক্ষেত্রে ট্যাক্স বেনিফিট পাওয়া সম্ভব।৮০ সি ধারায় আয়করে ছাড় পাওয়া যাবে। এছাড়াও তোলা লোনের সুবিধা থাকছেই। ফর্ম ১ এর বদলে জমা ফর্ম এ দিতে হবে।একটি অর্থবর্ষে মাত্র একবারই টাকা তোলা যাবে।ঋণের ক্ষেত্রে এই পিপিএফ এর সুদের হার ২% থেকে কমিয়ে ১% করা হয়েছে।

Advertisement

Related Articles